ওষুধ খাতের তালিকাভুক্ত নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি কনভার্টিবল বন্ডের সাবস্ক্রিপশনকৃত অর্থ মেয়াদ পূর্তির আগে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সোমবার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালের জুনে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য ১৫০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়। পাঁচ বছর মেয়াদি এ বন্ডের ৬০ শতাংশ শেয়ার রূপান্তরযোগ্য এবং মেয়াদ শেষে এটি পুরোপুরি অবসায়ন করার কথা ছিল। তবে বন্ডের সাবস্ক্রিপশনের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৮ কোটি টাকার সাবস্ক্রিপশন হয়। পরবর্তী সময়ে সাবস্ক্রিপশনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করা হলেও অনুমোদন মেলেনি। এ অবস্থায় বন্ডটিতে সাবস্ক্রাইবকারী এবং এর ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে বন্ডের অর্থ ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।
প্রত্যাশিত পরিমাণ সাবস্ক্রিপশন না পাওয়ায় কোনো রূপান্তর ছাড়াই অর্থ ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। এ সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিটি বন্ডের অভিহিত মূল্য ১ লাখ টাকা এবং ন্যূনতম ১০টি বন্ড বা ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগের সীমা নির্ধারিত ছিল। বন্ডটির কুপনের হার পরিবর্তনশীল এবং এর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল বার্ষিক ৮-১০ শতাংশের মধ্যে। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এ বন্ড ইস্যুর জন্য বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনও নিয়েছিল কোম্পানিটি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের কোম্পানি সচিব লরেন্স শ্যামল মল্লিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতির কারণে বন্ডে মাত্র ৮ কোটি টাকা সাবস্ক্রাইব হয়েছে। ফলে আমরা যে উদ্দেশ্যে বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেটি পূরণ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে সাবস্ক্রাইবকারী ও ট্রাস্টির অনাপত্তিপত্রের ভিত্তিতে আমরা বন্ডের অর্থ ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেলে বন্ডের অর্থ ফেরত দিয়ে দেয়া হবে।’
বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করতে চেয়েছিল কোম্পানিটি। বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ টাকা। এ অর্থ দিয়ে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে চেয়েছিল কোম্পানিটি।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকের (জুলাই-মার্চ) নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৯ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা ৩২ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৫৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা ৪৬ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৩ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৪২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৭১ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৪২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৫২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৪১ পয়সায়।
নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স এনটিটি রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি টু’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড।
২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০৭ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩১১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ২১৭। এর ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১০ দশমিক ৮৯, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১৯ দশমিক ৬৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।